পাঁচটি দার্শনিক ভ্রান্তি, যা সকল খ্রীষ্টানকে জানা উচিত!
ভূমিকা
দর্শনশাস্ত্র ও খ্রীষ্টীয় ধর্মতত্ত্ব পরস্পরের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। আমরা খ্রীষ্টানরা ধর্মতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে যেসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি, সে সব সিধান্তের ওপর আমাদের দার্শনিক কিছু পূর্বধারণাসমূহের এক বিশাল প্রভাব কাজ করে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে, বিশেষ ভাবে ক্যাথলিক বাণীপ্রচারকদের (Apologists) এমন কয়েকটি সাধারণ দার্শনিক ভুলভ্রান্তির (Philosophical Mistake) বিষয়ে সচেতন থাকাটা অত্যন্ত জরুরি, যা আমাদের খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসের ওপর অনেক সময় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে । তাই এমন পাঁচটি ভ্রান্তির কথা এই প্রবন্ধে তুলে ধরবো। এগুলির বিষয়ে সঠিকভাবে জানা এবং এর ভ্রান্তির দিকগুলিকে সনাক্ত করে তার নিরসন করা, এই পুরো ব্যাপারে খ্রীষ্টানদের স্পষ্ট ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়।
১. বিশ্বাসের সাথে যুক্তির কোনো
সম্পর্ক নেই
বিশ্বাস ও যুক্তি এক জিনিস
নয়; তবে ক্যাথলিক মণ্ডলী বিশ্বাস করে, মানুষের বিশ্বাস এবং মানুষের যুক্তি করার ক্ষমতা—উভয়ই ঈশ্বরের দান। বিশ্বাস ও যুক্তি—এই দুটি মানুষকে দেওয়া হয়েছে,
যাতে মানুষ বাস্তবতা সম্পর্কিত সত্যকে
জানতে পারে। সত্য যেহেতু কখনোই সত্যের বিরোধী হতে পারে না,
ঠিক তেমনই বিশ্বাসও যুক্তির বিরোধী হতে
পারে না—এবং এর বিপরীতটিও তেমনই সত্য। পোপ মহাদয়, তাঁর বিশ্বপত্র ‘Fides et Ratio’
(বিশ্বাস ও যুক্তি)-তে বিশ্বাস ও যুক্তিকে দুটি ডানার সাথে তুলনা করেছেন, যার সাহাজ্যে মানবাত্মা ঈশ্বরের অভিমুখে আরোহণ
করতে পারে। বিশ্বাস শুধুমাত্র অনুভূতি ও
ভাবাবেগের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার পরিবর্তে, তাকে যুক্তিসঙ্গত এবং সুনিশ্চিতও হতে হয়।
প্রথমত, উল্লিখিত দার্শনিক ভ্রান্তির আড়ালে দুটি পার্থক্য অস্পষ্ট হয়ে আছে। প্রথমটি, যা নিজেই যুক্তিসঙ্গত এবং দ্বিতীয়টি, যা মানুষের কাছে যুক্তিসঙ্গত—এই দুইয়ের মধ্যে একটি বড় পার্থক্য আছে। মানে, যেসব বিষয়গুলি খ্রীষ্টানরা বিশ্বাসের মাধ্যমে জানে—যেমনঃ ঈশ্বর ত্রিত্বস্বরূপ, কিংবা যীশুর মধ্যে ঐশ্বরিক ও মানবীয়—উভয় স্বভাব বিদ্যমান—সেগুলোকে খ্রীষ্টানরা ‘স্বয়ং যুক্তিসঙ্গত’ বা ‘নীতিগতভাবে যুক্তিসঙ্গত’ বলেই গ্রহণ করে; কারণ তারা ঈশ্বর-প্রদত্ত কর্তৃত্বের মাধ্যমেই (মণ্ডলী) এসব বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে পারে, যিনি স্বয়ং খ্রীষ্টানদের কাছে এসব সত্য উন্মোচন করেছেন। খ্রীষ্টানদের এমন সব বিষয়ে শুধুমাত্র মানবীয় যুক্তিবুদ্ধির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে কোনও বিশ্বাস গড়ে তোলার চাইতে, ঈশ্বর প্রকাশিত জ্ঞানকে ভিত্তিহিসেবে গ্রহণ করা অনেক বেশি সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য। কিছু কিছু বিষয় আছে, যেমন উল্লিখিত খ্রীষ্টবিশ্বাসের রহস্যগুলো, এই মুহূর্তে আমাদের অনেকের কাছে বোধগম্য বলে মনে হয় না; কারণ আমরা সেগুলোকে পূর্ণাঙ্গরূপে অনুধাবন করে উঠতে পারিনি। তবে এ কথাও আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে, ওই বিষয়গুলো আদৌ বোধগম্য নয়; কারণ এগুলো এমন সব বিষয় যা মানুষের বোধগম্যতার সীমানা অতিক্রম করে । তবে ঈশ্বরের নির্দেশনার মাধ্যম ও ‘মণ্ডলী’-র (Church) মধ্যস্থতায় এবং ঈশ্বরের কর্তৃত্বের ওপর নির্ভর করেই আমরা এসব বিষয়কে যুক্তিসঙ্গত বা বিশ্বাসযোগ্য বলে মেনে নিই।
দ্বিতীয়ত, জ্ঞান বিভিন্ন প্রকারের হয় এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে। উদাহরণস্বরূপ, গণিত, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, অধিবিদ্যা এবং ঐশ্বরিক প্রত্যাদেশলব্ধ তথ্য—এসব উৎস থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন জ্ঞান আছে । তবে যাদের মধ্যে “দার্শনিক ভ্রান্তি” রয়েছে তারা প্রথম দুই প্রকারের জ্ঞানকে—এবং ক্ষেত্রবিশেষে কেবল প্রথম প্রকারের জ্ঞানকেই—স্বীকৃতি দেন ও স্বীকার করে থাকেন। অথচ তর্কশাস্ত্রে এহেন বাছ-বিচার সম্পূর্ণ মনের খেয়াল এবং স্ব-বিরোধী । কারণ, গণিত বা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে, গণিত বা বিজ্ঞানলব্ধ জ্ঞানই কেন মানুষের কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য জ্ঞান হিসেবে বিবেচিত হবে? এদের পরিধির বাইরে অন্যান্য যে সকল জ্ঞানের উৎস রয়েছে তা কেন গ্রহণযোগ্য জ্ঞান বলে গণ্য হবে না? এর যৌক্তিকতা কোথায়?
বিশ্বাসের নিজস্ব কারণ রয়েছে। অধিকাংশ খ্রীষ্টানরাই জানেন যে, তাদের ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার নিরিখে ‘বিশ্বাস’ একটি যুক্তিসঙ্গত বিষয়। কিন্তু এই যুক্তিগুলি বৈজ্ঞানিক যুক্তির মতো নয়। অন্যদিকে আবার, গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন বিশ্বাসীরা বলবেন যে—দর্শন, বিজ্ঞান এবং গণিতের বিভিন্ন অনুসন্ধানলব্ধ ফলাফল—সবকিছুই বিশ্বাসের যৌক্তিকতার দিকেই ইঙ্গিত করে। যদিও এ কথা সত্য যে, ঈশ্বরের ‘ত্রিত্ব’ (Trinity) সম্পর্কে কোনো জ্যামিতিক প্রমাণ উপস্থাপন করা কিংবা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে যীশু খ্রীষ্টের ‘দ্বৈত সত্তা’র (Dual Nature) বিষয়টি যাচাই করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব; অতএব, আমরা কেবল “বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি” দ্বারা উপলব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমগুলোর মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবো না।
২. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি দ্বারা ঈশ্বরের অস্তিত্ব জানা যায়
না
উপরের এই বিবৃতিটি সঠিক, যদি আমরা সত্যিই বুঝে থাকি ‘বিজ্ঞান’ আসলে কী এবং এর মূল কাজ কী। বিজ্ঞান শুধুমাত্র সেই জ্ঞানভাণ্ডারই মানুষের কাছে তুলে ধরে, যা মানুষ জাগতিক ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুসমূহকে সরাসরি অধ্যয়ন ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে—অর্থাৎ স্পর্শ শক্তি, শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টি শক্তি, কিংবা অন্য কোনো উপায়ে বিষয়টিকে প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করে। তাই এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের সাহায্যে আমরা ঈশ্বরকে জানতে পারব না। কারণ ঈশ্বর কোনও জড়বস্তু (Material) নন, এবং মানুষ তাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে কেবল জড় বস্তুসমূহ অনুভব করতে পারে। খ্রীষ্টানরা যীশু খ্রীষ্টকে এই কারণে ঈশ্বর বলে বিশ্বাস করে না, কারণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্বারা সে কথা প্রমাণিত হয়েছে।
অবশ্য আমরা যদি বিজ্ঞানের ধারণাকে এমনভাবে প্রসারিত করি যেখানে—অন্য বস্তুর ওপর কোনো কিছুর প্রভাব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমরা সেই ‘বস্তু বা বিষয়’ সম্পর্কে যে জ্ঞান লাভ করতে পারি—তবে এমন ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের মাধ্যমেই ঈশ্বরকে জানা সম্ভব। বিজ্ঞানের ধারণাকে এভাবে প্রসারিত করার পেছনে দুটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে।
প্রথম কারণ, বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন বস্তুর ওপর তাদের প্রভাবের ভিত্তিতেই সেই
বস্তুগুলোকে নিয়ে গবেষণা করেন এবং তাদের অস্তিত্ব স্বীকার করেন। তেমন তিনটি
উদাহরণ এখানে দেওয়া যাক।
কৃষ্ণগহ্বর (মহাকর্ষ) - Black
Hole: কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোল সমস্ত আলো শুষে নেয়,
আর এগুলো মানুষের চোখে দৃশ্যমান নয়।
বিজ্ঞানীরা কোনও কৃষ্ণগহ্বরের
অবস্থান নির্ণয় করেন তাদের কাছাকাছি থাকা নক্ষত্রগুলোকে
পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে। যদি কোনো নক্ষত্রকে মহাকাশের কোনো ‘শূন্য’ বা ‘ফাঁকা’ স্থানের চারপাশে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রদক্ষিণ করতে দেখা যায়, তবে বিজ্ঞানীরা ধরে নেন যে—সেখানে একটি
কৃষ্ণগহ্বরের মহাকর্ষীয় টান কাজ করছে।
বহির্গ্রহ (আলোর তীব্রতার হ্রাস) -
Exoplanets: আমাদের
সৌরজগতের বাইরে অবস্থিত অধিকাংশ গ্রহই এত বেশি দূরবর্তী এবং অনুজ্জ্বল যে, সেগুলোকে সরাসরি খালি চোখে দেখা কোনও ভাবেই সম্ভব
নয়। তাই মহাকাশ বিজ্ঞানীরা ‘ট্রানজিট
পদ্ধতি’ (Transit Method) ব্যবহার করে এদের শনাক্ত
করেন। তারা দূরবর্তী কোনো নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা বা দীপ্তি
পর্যবেক্ষণ করেন; এবং যদি দেখা যায় যে, নির্দিষ্ট কিছু সময়ের পর পর সেই উজ্জ্বলতা
হঠাৎ কিছুটা ‘কমে আসছে’, তখন তারা বুঝতে পারেন যে—ওই নক্ষত্রটির সামনে দিয়ে
কোনো একটি গ্রহ অতিক্রম করছে।
বাতাস (ভৌত গতি) – Physical Motion of Wind: আবহাওয়াবিদরা বাতাসকে সরাসরি চোখে দেখতে পান না বটে; কিন্তু বিভিন্ন বস্তুর ওপর বাতাসের যান্ত্রিক প্রভাব লক্ষ্য করে তারা বাতাসের গতিবেগ ও দিক পরিমাপ করেন। যেমনঃ অ্যানিমোমিটার যন্ত্রের ঘূর্ণন, গাছের ডালপালার নড়ে ওঠা, কিংবা আবহাওয়া-বেলুনের ভেসে চলা।
দ্বিতীয় কারণ, আমরা কখনোই কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুকে সরাসরি অনুভব করি না। কথাটা শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও এটাই সত্যি। যেমন ধরুন, আমরা যখন একটি বল দেখি, তখন আমরা সরাসরি সেই বলটিকে দেখছি না; বরং আমরা যা দেখছি তা হল বলটি থেকে প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে এসে পৌঁছানো আলোর সাথে আমাদের দৃষ্টি-সম্পর্কীয় স্নায়ুতন্ত্রের (Optical Nerve) এক ধারাবাহিক মিথস্ক্রিয়াকে, যা আমাদের স্নায়ু দ্বারা প্রক্রিয়াজাত হয়ে মস্তিষ্কে সংরক্ষিত হয়। আমরা মূলত যেটা অনুভব করি, তা হল আলোর ওপর বলটির প্রভাব, আমাদের স্নায়ুর ওপর সেই আলোর প্রভাব এবং আমাদের মস্তিষ্কে সৃষ্ট সেই ফলাফলস্বরূপ ‘বল’ নামক বস্তুটির ‘প্রতিচ্ছবিকে’। কারণ, মানুষের ইন্দ্রিয়গুলো এমনভাবেই গঠিত, যাতে তারা কোনও বস্তুকে সরাসরি আয়ত্ত করার পরিবর্তে সেগুলোর ‘প্রভাব বিচার-বিশ্লেষণ’ করে সেই বস্তুর সম্বন্ধে কিছু জ্ঞান অর্জন করতে পারে। তাই, ঈশ্বরের প্রভাব অধ্যয়নের ক্ষেত্রেও আমরা যে একই নীতিগুলি প্রয়োগ করতে পারব না, এমন মনে করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।
সাধু থোমাস অ্যাকুইনাস (St. Thomas Aquinas) ঈশ্বরের অস্তিত্ব জানার পাঁচটি উপায় বলে দিয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে সহজে বোঝা যায় এমন দুটি উপায় হলঃ “মহাবিশ্বের নকশা-ভিত্তিক যুক্তি” এবং “মহাবিশ্বের শর্তাধীনতা-ভিত্তিক যুক্তি” । নকশা-ভিত্তিক যুক্তিটি অনুযায়ী, যা কিছুতে বা কোনও বস্তুতে উচ্চ মাত্রার শৃঙ্খলা, বোধগম্যতা এবং উদ্দেশ্য লক্ষ্য করা যায়, তা অবশ্যই কোনো মন (Mind) দ্বারা পরিকল্পিত বা রচিত করা হয়েছে। আমাদের এই মহাবিশ্ব তেমনই এক বস্তু বা কোনকিছু। তাই যুক্তিসঙ্গত ভাবেই মহাবিশ্ব অবশ্যই কোনো ‘মন’ বা Mind দ্বারা পরিকল্পিত হয়েছে। অ্যাকুইনাস বলেন, একেই আমরা ঈশ্বর বলি। মহাবিশ্বের শর্তাধীনতা-ভিত্তিক যুক্তিটি সহজভাবে আমাদের এ কথা বলে যে, এটা ভাবা অসম্ভব নয় যে এই মহাবিশ্বের অস্তিত্ব নাও থাকতে পারতো। যদি এই মহাবিশ্ব কেবলমাত্র জরবস্তুরই এক জটিল রুপ হয়, তবে এই মহাবিশ্বের মধ্যে এমন কিছুই নেই যা এর অস্তিত্বকে আবশ্যিকভাবে দাবি করতে পারে। একটা ইট এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ কারণ সেটা মানুষ বানিয়েছে। কিন্তু মানুষ যদি ইট না বানাত, তাহলে এর কোনও অস্তিত্ব থাকতো না। মাটিকে আগুনে পুড়িয়ে ইট তৈরি করা হয়। তবুও আমার কোনদিন দেখেনি, মাটি নিজে থেকেই ইট বানিয়েছে। অতএব, এই মহাবিশ্বের মধ্যে অবশ্যই আরও মহৎ কিছু থাকতে হবে, এমন কোনও কিছু যা নিজে কোনও শর্তের অধীনে নয় এবং যা মহাবিশ্বের অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠা করে। সেই ‘কোনও কিছু’ হলো যাকে আমরা ঈশ্বর বলি।
৩. ডারউইনের মতবাদ
জীবনের অস্তিত্বের ব্যাখ্যা হিসেবে ঈশ্বরের প্রয়োজনীয়তা মুছে দিয়েছে
জনপ্রিয় বস্তুবাদী নাস্তিক ও বিজ্ঞান-দার্শনিক রিচার্ড ডকিন্স (Richard Dawkins) এই বক্তব্যের জন্য সুপরিচিত। তার মতে ডারউইনবাদ একজন ব্যক্তিকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পরিতৃপ্ত নাস্তিক হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। ‘আণবিক-বিবর্তনের’ ( Micro Evolution) তত্ত্বটিকে সত্য বলে মেনে
নিলেও, এই তত্ত্বটির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অত্যন্ত সামান্য এবং যা দাবি করে যে,
অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার শর্তে বিভিন্ন প্রজাতি তাদের দৈহিক গঠন এমন আমূলভাবে পরিবর্তন করে ফেলেছে যে তারা সম্পূর্ণ এক নতুন প্রজাতিতে
রূপান্তরিত হয়েছে। ডারউইনবাদ হলো এমন এক তত্ত্ব
(Theory), যা ব্যাখ্যা করে যে পরিবেশগত চাপের কারণে জীবজগৎ কীভাবে নিজেদের মানিয়ে নেয় এবং পরিবর্তিত হয়। তবে কথা হল, যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব নেই, সেখানে ডারউইনের
মতবাদ অকেজ। অন্য কথায়, ডারউইনবাদ এই উত্তর
দেয়না, জীবনের সূচনা ঠিক কীভাবে হয়েছিল।
কেনই বা এই মস্তিকহীন বস্তুজগতের জীব সৃষ্টি করার দরকার হয়ে পড়েছিল। ড. রবিন বার্নহফ দেখিয়েছেন, “অ্যামিনো
অ্যাসিডগুলো দৈবক্রমে একত্রিত হয়ে, একটি মাত্র সংক্ষিপ্ত
প্রোটিন শৃঙ্খল গঠনের সম্ভাবনা এতটাই ক্ষীণ যে, এমনটি নিজে
থেকে ঘটেছিল বলে দাবি করাটা হাস্যকর তো বটেই, বরং চরম অযৌক্তিকতার পর্যায়ে পড়ে” । (তথ্যসূত্রঃ “Confronting Creation’s Complexities,” *This Rock*, সেপ্টেম্বর ২০০৩)। আর সেখানে জীবনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করা RNA বা DNA
এর শৃঙ্খল নিজে থেকে গঠিত হওয়ার সম্ভাবনার
বিষয়টি তো এক্ষেত্রে আলোচনার বাইরেই রাখতে হয়।
কিন্তু ডারউইনবাদ স্ববিরোধী। কারণ যদি প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমেই মানুষের বিবর্তন ঘটে থাকে, তাহলে ডারউইনবাদ সম্পর্কে সত্যটি জানা মানুষের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনের মতবাদ অনুযায়ী, কোনো প্রজাতির বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিবেশগত চাপের প্রভাবে এমনভাবে বিকশিত হয় যে, কেবল সেই বৈশিষ্ট্যগুলোই বিবর্তিত হয়ে ওঠে যা সেই জীবকে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার উপযোগী করে তোলে।
এর মানে দাঁড়ালো, মানুষের বিভিন্ন সক্ষমতা—যার মধ্যে ডারউইনবাদের মতো তত্ত্ব গড়ে তোলার ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—এটিও নিঃসন্দেহে বিবর্তিত হয়েছে এই কারণেই যে, এর মূল লক্ষ্য হলো টিকে থাকা, বাস্তবতা ও মানবজীবনের প্রকৃত সত্যকে জানা নয়। মানুষের জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতি আসে, যেখানে তার পক্ষে বাস্তবতার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়াটাই বরং তার টিকে থাকার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে। যেমন ধরুন, বাড়িতে আগুন লেগেছে। একজন ব্যাক্তি নিজেকে বাঁচানোর জন্য সেই বাড়িতে থেকে আগে বেড়িয়ে এলো। কিন্তু তার স্ত্রী ও সন্তানদের সে ওই বাড়ির মধ্যেই রেখে এলো। কারণ তাদেরকে উদ্ধার করতে গেলে সে আগুনে পুড়ে মারা যেতে পারে। ডারউইনের মতবাদ অনুযায়ী তো এমনটাই হওয়া উচিত। কিন্তু আমরা, মানুষ, এমনটা করি না। বরং বিপদের সময়ে বা কোনও চাপের মুখে সবার আগে আমাদের প্রিয় মানুষের কথা মাথায় আসে, মাথায় আসে সেই মানুষগুলির কথা যাদের আমরা ভালোবাসি। যাদের জন্য নিজেদের প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দিয়ে থাকি। সুতরাং, যদি মানুষের সক্ষমতাগুলো মানবজীবনের সত্যকে জানার পরিবর্তে কেবলমাত্র নিজের জীবন টিকিয়ে রাখার দিকেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে মানবজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির ব্যাপারে সত্য জানার জন্য ডারউইনের মতবাদটি আদৌ নির্ভরযোগ্য নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তা মিথ্যা বলে প্রমাণ হয়ে যাবে। কারণ অন্যের প্রতি দয়ামায়া দেখানো, কাউকে সাহাজ্য করা কিংবা কাউকে ভালবাসা ডারউইনবাদের দৃষ্টিতে অর্থহীন।
৪. ঈশ্বর একই সময়ে সর্বশক্তিমান, সর্বপ্রেমময় এবং সর্বজ্ঞ হতে পারেন না, কারণ মন্দের অস্তিত্ব আছে
নাস্তিকদের মধ্যে এই উক্তি ভীষণ ভাবে প্রচলিত। তারা এই উক্তির মধ্যে দিয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে।
তাদের যুক্তি হলো, বিশ্বাসীদের ঈশ্বর তাঁর সৃষ্ট জীবের কেবলমাত্র মঙ্গলই করবেন। কিন্তু বাস্তবে যখন মন্দের অস্তিত্ব রয়েছে; অতএব, ঈশ্বরের পক্ষে উল্লিখিত গুণাবলির মধ্যে যেকোনো দুটি থাকা সম্ভব হলেও, তিনটিই একসঙ্গে থাকা সম্ভব নয়। ঈশ্বর হয়তো সর্বশক্তিমান ও সর্বপ্রেমময় হতে পারেন, কিন্তু মন্দতাকে কীভাবে নির্মূল করতে হয়, তা তাঁর জানা নাও থাকতে পারে। বা তিনি হয়তো সর্বপ্রেমময় ও সর্বজ্ঞ হতে পারেন, কিন্তু মন্দের ব্যাপারে কিছু করার ক্ষমতা তাঁর নাও থাকতে পারে। আবার তিনি হয়তো সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞ হতে পারেন, কিন্তু মন্দের ব্যাপারে কিছু করতে তিনি হয়তো অনিচ্ছুক।
“ঈশ্বর তাঁর সৃষ্ট জীবের কেবলমাত্র মঙ্গলই করবেন!”—এ কথার মধ্য দিয়ে একজন ঈশ্বর-বিরোধী (Anti-Theist) মানুষ আসলে বোঝাতে চান যে, ঈশ্বর নিশ্চয়ই চাইবেন না যে তাঁর সৃষ্ট জীবের ওপর কোনো অমঙ্গল নেমে আসুক। অথচ আমরা দেখি যে, তাঁর সৃষ্ট জীবের ওপর অমঙ্গল ঠিকই নেমে আসে। ঠিক এখানেই তাদের ভুল হয়। কারণ, যদি এমন কোনো ‘উচ্চতর মঙ্গল’ থাকে, যা ঈশ্বর কেবল অমঙ্গলের অস্তিত্ব বজায় রাখার মাধ্যমেই নিশ্চিত করতে পারেন, তবে তিনি জীবের উপর কিছু অমঙ্গল ঘটার অনুমতি প্রদান করতে পারেন। একজন খ্রীষ্টানের দৃষ্টিতে, সেই ‘উচ্চতর মঙ্গল’, যা অমঙ্গলের অস্তিত্বকে যৌক্তিকতা প্রদান করে, তা আসলে ‘ভালোবাসার স্বাধীনতা’।
এই বিষয়টি বোঝার জন্য একটি ছোট গল্প এখানে বলছি। ঈশ্বর এমন এক জাতির সৃষ্টি করলেন যাদের হাতে কনুই ছিল না। এরপর তিনি তাদের দুটি টেবিলে বসিয়ে দিলেন, যেখানে খাওয়ার জন্য তাদের সামনে কেবল অত্যন্ত লম্বা কিছু চামচ রাখা ছিল, এবং টেবিলগুলো ছিল সুস্বাদু সব খাদ্যে পরিপূর্ণ। সেই অদ্ভুত চামচগুলোর কারণে এবং তাদের হাতের কনুই না থাকার কারণে তারা নিজেদের মুখে খাবার তুলে নিতে পারছিল না। তাই প্রথম টেবিলের লোকেরা ঈশ্বরের নিন্দা করতে লাগল; তাদের অভিযোগ, ঈশ্বর তাদের খাওয়ার জন্য এত চমৎকার সব খাবার সাজিয়ে রাখলেও, সেই সব খাদ্যকে মুখে তোলার কোনো উপায়ই তিনি তাদের জন্য রাখেননি। অন্যদিকে দ্বিতীয় টেবিলের লোকেরা দেখল যে, তাদের চামচগুলো ঠিক ততটাই লম্বা, যা দিয়ে তাদের ঠিক উল্টো দিকে বসে থাকা মানুষটিকে খাইয়ে দেওয়া সম্ভব। তখন এই টেবিলের লোকেরা পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক প্রেমময় সম্পর্কের সন্ধান পেল এবং ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাল, উভয় কারনেইঃ সেই সব সুস্বাদ খাবারের জন্য এবং তাদের সদ্য খুঁজে পাওয়া নতুন বন্ধুদের জন্য। ঈশ্বর যদি তাদের সামনে এমন প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করতেন, তবে বিষয়টি এমনভাবে ঘটত না। বাস্তবে কঠিন পরিস্থিতি, বাধা, মানুষের জীবনে আসা নানা রকমের সমস্যাগুলি তাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এইসব না থাকলে মানুষ নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আবিষ্কার করতে পারে না।
মন্দ কিংবা অশুভ শক্তির সমস্যার সমাধান করার জন্য ঈশ্বর কোনো দার্শনিক যুক্তি দিয়ে উত্তর দেননি। তিনি এই সমস্যার উত্তর দিয়েছেন, তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্টের চরম যন্ত্রণাভোগ ও মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। খ্রীষ্ট, যিনি ছিলেন পরম নির্দোষ, নিষ্পাপ ও পবিত্র —তাঁর প্রতি ঘটা নানা প্রকারের অন্যায়, প্রত্যাখ্যান ও মৃত্যুদণ্ডাদেশের মধ্য দিয়ে তিনি চরম মন্দের অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন। স্বয়ং ঈশ্বর যদি প্রেমের খাতিরে অমঙ্গল ও মন্দতা গ্রহণ করাকে একটি লাভজনক বিনিময় হিসেবে দেখেছেন, তবে মানুষেরও পক্ষে তা মেনে নিতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। অবশ্য মানুষ যদি সত্যিই প্রেমের স্বভাব ও দাবিগুলিকে পূর্ণ অর্থে বুঝে থাকে।
৫. মানুষ গুণগতভাবে পশুপাখিদের চেয়ে ভিন্ন নয়
আমাদের সমাজের অধিকাংশ বস্তুবাদী দার্শনিক এবং
প্রাণী অধিকার আন্দোলনের কিছু উগ্রপন্থী সদস্য এই কথাটি বলে থাকেন। পশুপাখিরা যদি গুণগতভাবে মানুষের চেয়ে ভিন্ন
না হয়, তবে নীতিশাস্ত্র ও আইন, উভয়
ক্ষেত্রেই পশুপাখিদের প্রতি আচরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়া
উচিত নয়। তাদের এই চিন্তাধারা ভুল। এমন
তিনটি সুনির্দিষ্ট কারণ আছে, যা প্রমাণ করে যে মানুষ অন্যান্য পশুপাখিদের তুলনায় উচ্চস্তরে
স্তরে অবস্থান করে।
প্রথমত, মানুষ ভাষা ব্যবহার করে, কিন্তু পশুপাখিরা তা করে না। কিছু প্রাণীকে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমনভাবে শেখানো সম্ভব, যাতে তারা তাদের প্রশিক্ষকদের দেওয়া সংকেতের জবাবে কিছু একটা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একটি শিম্পাঞ্জি তার প্রশিক্ষকের নির্দেশ— “জুতোটি পরে নাও”— কথাটি শুনে সত্যিই জুতোটি পড়ে নিতে পারে। কারণ তাকে ঠিক এভাবেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যখন প্রশিক্ষক শিম্পাঞ্জি বলেন, “চাবিগুলো ফ্রিজের ভেতর রাখো,” তখনও সে কিন্তু সেটাই করবে। শিম্পাঞ্জি কিন্তু এ কথা বোঝে না, চাবি ফ্রিজের ভিতর রাখার জিনিস নয়। কিন্তু মা যদি তার ছোট বাচ্চাটিকে চাবিগুলো ফ্রিজের ভেতর রাখতে বলেন, তবে সেই বাচ্চাটি তার মাকে কেমন ভাবে উত্তর দেবে? “মা তুমি কী বোকা! চাবি তো কেউ ফ্রিজে রাখে না!” ওই বাচ্চাটির চাবি ও ফ্রিজ—উভয়ের সম্পর্কে এবং সেগুলোর স্বতন্ত্র কার্যকারিতার ব্যাপারে এক সম্যক ধারণা আছে। ঠিক এ কারণেই, চাবি ফ্রিজে রাখা কেন ঠিক নয়, তা এই শিশুটি বুঝতে পারে এবং মায়ের এমন নির্দেশকে সম্পূর্ণ অর্থহীন বলে মনে করে। অথচ, শিম্পাঞ্জির মধ্যে এমন কোনো বোধগম্যতাই নেই।
দ্বিতীয়ত, যখন মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হয়, তখন মানুষ এবং পশুপাখিরা, তারা উভয়েই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। একজন মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যখন পূরণ হয়, তখন সে প্রায়শই অন্যান্য কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ে। যেমন সাংস্কৃতিক চর্চা, কিংবা গান বাজনা করা কিংবা তখন তার মনে এই প্রশ্নেরও দুঃশ্চিন্তা দানা বাঁধেঃ “যদি আমার কাছে যথেষ্ট টাকাকড়ি না থাকে তাহলে যদি আমি কখনও গুরতর ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন আমার কী হবে?” অন্যদিকে, কোনো পশুপাখির মৌলিক চাহিদাগুলো যখন পূরণ হয়ে যায়, তখন সে ঘুমিয়ে পড়ে। সে তখন সাহিত্য চর্চা কিংবা গানবাজনায় নিজেকে ব্যাস্ত করে দেয়না। এমন কোনো পশুপাখির কথা শুনেছেন, যে কি না ‘বিচ্ছিন্নতাবোধে’ (Alienation) ভুগছে? কিংবা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ভীষণ মানসিক চাপে রয়েছে?
তৃতীয়ত, মানুষ নৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। পশুপাখিরা যদি নৈতিকভাবে আচরণ করতে অক্ষম হয়, তবে তাদের ‘নৈতিক প্রাণী’ (Moral Creature) হিসেবে মর্যাদা প্রদান করার কোনো অর্থই হয় না। একটি শিম্পাঞ্জি আইন কিংবা নৈতিক রীতিনীতির কিছুই বোঝে না। যেহেতু সে নৈতিকভাবে আচরণ করতে সক্ষম নয়, তাই নৈতিকভাবে আচরণে সক্ষম মানুষের প্রতি আমরা যে ধরনের নৈতিক মর্যাদা প্রদর্শন করে থাকি, তার প্রতিও ঠিক একই ধরনের মর্যাদা প্রদর্শন করা উচিত নয়।
শেষের কথা
মানুষের শিশু একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত নৈতিকভাবে আচরণ করতে অক্ষম। কিন্তু মানুষের শিশু সময়ের সাথে সাথে তার সুপ্ত নৈতিক দিকগুলি বিকশিত করে তোলে। ওই দিকগুলি বিকশিত হওয়ার অন্যতম একটি উপায় হলো শিশুটির সাথে নৈতিক আচরণ করা । এর বিপরীতে এটি কল্পনা করাও অসম্ভব যে, কেউ যদি কোনো শিম্পাঞ্জির সাথে নৈতিক আচরণ করে তবে সেই শিম্পাঞ্জিটিও একদিন এক নৈতিক প্রাণীতে পরিণত হবে।
যাই হোক, আরও অনেক দার্শনিক ভ্রান্তি রয়েছে। তবে খ্রীষ্টানদের এই পাঁচটি ভ্রান্তির উপযুক্ত উত্তর জানা থাকলে একজন ঈশ্বর-বিরোধী (Anti-Theist) মানুষের যুক্তির বিরুদ্ধে তারা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানেই থাকবে। তবে মনে রাখতে হব, যুক্তি দিয়ে কাউকে বিশ্বাসে বাধ্য করা যায় না। এমনকি আমরা যদি যুক্তিতর্ক ও বিচার বিশ্লেষণ দিয়ে জগতের সকল দার্শনিক কিংবা ধর্মতাত্ত্বিক ভ্রান্তিগুলো দূর করেও দিই, তবুও বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত একটি উপহারই। এটি ঈশ্বরের দান। খ্রীষ্টান হিসেবে আমরা যা করতে পারি তা হলো, এই উপহারটি গ্রহণ করার পথে যে সকল সম্ভাব্য বাধা আছে তা সরিয়ে ফেলা, যাতে তা গ্রহণ করা অন্যের পক্ষে, আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের জন্যও সহজতর হয়ে ওঠে।
