ZoyaPatel

প্রসঙ্গ ঈশ্বরের অস্তিত্বঃ মহাবিশ্বের নকশা থেকে যুক্তি

Mumbai

যুক্তির সূচনা – Argument From Design

ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কিত এই যুক্তির সূচনা হয় তর্কশাস্ত্রের প্রধান এই সূত্র দিয়ে : যেখানে নকশা (Design) রয়েছে, সেখানে অবশ্যই একজন নকশাকারও (Designer) আছেন। যেহেতু, সমগ্র মহাবিশ্ব জুড়ে নকশার অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়, অতএব, অবশ্যই একজন বিশ্ব-নকশাকার আছেন”


যুক্তির ব্যাখ্যা

প্রশ্ন হল, কেন আমাদের তর্কশাস্ত্রের এই সূত্রটিকে সঠিক বলে বিশ্বাস করতে হবে যে, সকল নকশাই একজন নকশাকারের অস্তিত্বকে প্রমাণ করে? তার কারণ বাস্তবে আমরা সকলেই এই যুক্তিকে স্বীকার করি। উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনি একটি নির্জন দ্বীপে এসে সমুদ্র সৈকতের বালিতে একটি বিপদকালীন সংকেত বার্তা “S.O.S.” লেখা দেখতে পেলেন। আপনি অবশ্যই এ কথা ভাববেন না যে বাতাস বা সমুদ্রের ঢেউ এসে এটিকে দুর্ঘটনাক্রমে লিখেছে, বরং ভাববেন যে নিশ্চয়ই সেখানে কেউ ছিল, যে এটা লিখেছে, এবং যে লিখেছে সে যথেষ্ট বুদ্ধিমান কেউ। বা ধরুন আপনি একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গেছেন। আর সেখানে গিয়ে পাথর কেটে তৈরি কুঁড়ে ঘর দেখতে পেলেন, যার দুটি জানালা আছে ও একটি দরাজা আছে এবং সেই কুঁড়ে ঘরের সামনে কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালানো রয়েছে। তখন আপনি কী এ কথা ভাববেন যে, ঘূর্ণিঝড় এসে দুর্ঘটনাক্রমে এই নির্জন পাহাড়ি এলাকায় পাথরগুলিকে সাজিয়ে গুছিয়ে এভাবে একটা ঘর নির্মাণ করে তার সামনে কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে গেছে? অবশ্যই না! তাই যখনই আপনি কোনও নকশা দেখেন, আপনি তখনই বুঝতে পারেন যে একজন নকশাকার অবশ্যই আছেন।

যখন আমেরিকার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে প্রথম চন্দ্র-রকেটটিকে মহাকাশের দিকে ছুঁড়ে দেওয়া হলো, তখন দুজন মার্কিন বিজ্ঞানী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সেটা লক্ষ্য করছিলেন। তাদের একজন ছিলেন আস্তিক, আর অন্যজন নাস্তিক। আস্তিক বিজ্ঞানীটি বললেন, “বিষয়টি কী চমৎকার নয় যে, আমাদের রকেটটি নিছক দুর্ঘটনাক্রমে চাঁদে মাটিতে গিয়ে পা রাখবে?” নাস্তিক বিজ্ঞানীটি ভারি আপত্তি জানিয়ে বললেন, “দুর্ঘটনাক্রম মানে কী? এই রকেটটির নকশা তৈরি করতে আমরা বিপুল পরিমাণ অর্থ ও কয়েক লক্ষ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেছি। আস্তিক বিজ্ঞানীটি বললেন, “ও! তার মানে তোমার মনে হয় না যে, রকেটের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাক্রম’ কথাটা একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হতে পারে? তাই তো? তাহলে আমাদের এই মহাবিশ্বের সৃষ্টির ক্ষেত্রে তুমি কেন দুর্ঘটনাক্রম’ কথাটিকে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা বলে মনে করো? মানুষের তৈরি একটি রকেটের তুলনায় মহাবিশ্বের গঠনশৈলীতে অনেক বেশি সুপরিকল্পনা ও জটিল নকশার ছাপ রয়েছে। আমরা হয়তো একটি রকেটের নকশা তৈরি করতে পারি, কিন্তু সমগ্র মহাবিশ্বের নকশা তৈরি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমার মনে কেবলই কৌতূহল জাগে, কে তবে তা করতে সক্ষম?” সেই দিনই অন্য এক সময়ে তাঁরা দুজনে একটি রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং পথে একটি পুরাকীর্তির দোকানের সামনে দিয়ে যেতে যেতে নাস্তিক বিজ্ঞানীটি দোকানের জানলার কাছে টাঙানো একটি ছবির ভূয়সী প্রশংসা করলেন এবং বললেন, “আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে—কে এঁকেছেন এই ছবিটি?” আস্তিক বিজ্ঞানীটি কৌতুকচ্ছলে উত্তর দিলেন, “কেউই আঁকেননি; এটিও তো নিছক দুর্ঘটনাক্রমে সৃষ্টি হয়ে গেছে!


কাকতালীয় (Coincidence) বা দুর্ঘটনাক্রমে (Accidentally) সৃষ্টি হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা

কোনো নকশাকার ছাড়াই কেবলমাত্র কাকতালীয় বা দুর্ঘটনাক্রমে কোনো নকশার সৃষ্টি হওয়া কী আদৌ সম্ভব? বালির ওপর বাতাসের তোড়ে বিপদকালীন সংকেত বার্তা “S.O.S.” কথাটি লেখা নিজে থেকে ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা হয়তো প্রতি ১ লক্ষ কোটি বারে মাত্র একবার। কিন্তু এমন “১ লক্ষ কোটিতে একবার”- ঘটে যাওয়া এক সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা কেইবা গ্রহণ করবে? কোনও এক ব্যাক্তি একবার বলেছিলেন, কেউ যদি দশ লক্ষ বানরকে দশ লক্ষ টাইপরাইটারের সামনে বসিয়ে দশ লক্ষ বছর ধরে রেখে দেয়, তবে শেষমেশ তাদের মধ্যে কোনও একটি বানর নিছক দুর্ঘটনাক্রমে শেক্সপিয়ারের হ্যামলেটনাটকটির পুরোটা টাইপ করে ফেলবে। কিন্তু যখন আমরা হ্যামলেট’- এর পাঠ্যরূপ গঠনশৈলী দেখতে পাই, তখন আমাদের মনে কী এই প্রশ্ন জাগে যে—এটি কোন কাকতালীয় বা দুর্ঘটনাক্রমে কিংবা বানরের কাজ থেকে সৃষ্টি হয়েছে? অবশ্যই না! তাহলে মহাবিশ্বের সৃষ্টির ক্ষেত্রে একজন নাস্তিক কেন সেই অবিশ্বাস্য রকমের অসম্ভাব্য ব্যাখ্যাটির আশ্রয় নিয়ে থাকে? এর কারণ স্পষ্ট—নাস্তিক হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রাখার জন্য এটিই যে তার কাছে একমাত্র উপায়। এই পর্যায়ে এসে মহাবিশ্বের সৃষ্টির কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যার তুলে ধরবার চাইতে বরং একজন নাস্তিকের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার প্রয়োজনই আমাদের কাছে অনেক বেশী জরুরি হয়ে ওঠে। মহাবিশ্বের সৃষ্টির একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা আমাদের হাতে রয়েছে বটে, কিন্তু নাস্তিকদের কাছে সেই ব্যাখ্যাটি একেবারেই পছন্দের নয়। আর সেই ব্যাখ্যাটির নাম হলো—ঈশ্বর।


মানুষের মস্তিস্কের ভাবনাগুলি কী গ্রহণযোগ্য? - A Mind Beyond Human Mind

তবে তর্কশাস্ত্রে নকশা সম্পর্কিত এই যুক্তির অন্য আর এক বিশেষ চিন্তা উদ্রেককারী প্রস্তাব আছে আমাদের সকলের কাছে একটা জিনিস আছে, যেটা আমাদের মধ্যেই আছে, আর এটি উপর নির্ভর করেই নাস্তিক আস্তিক, আমরা সকলেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে, মহাবিশ্বের অস্তিত্ব সম্পর্কে, জীবনের সম্পর্কে বিভিন্ন যুক্তিতর্ক উত্থাপন করি: সেটার নাম মস্তিষ্ক বিজ্ঞানীদের মতে মানুষের মস্তিষ্ক হল আমাদের পরিচিত এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে জটিল নকশা। মানুষের মস্তিষ্ক অনেক দিক দিয়ে একটি কম্পিউটারের মতো কাজ করে। এখন ধরুন, এমন একটি কম্পিউটার ছিল যা কাকতালীয় বা দুর্ঘটনাক্রমে প্রোগ্রাম করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনি এমন একটি বিমানে ছিলেন, যেখানে বিমানের পাবলিক-অ্যাড্রেস সিস্টেম ঘোষণা করেছিল যে, “এই বিমানে কোনও বিমান চালক নেই!”, কিন্তু বিমানটি এমন একটি কম্পিউটারের সাহাজ্যে আকাশে উড়ছিল যা কীবোর্ডের ওপরে এলোমেলো শিলাবৃষ্টির আঘাত পড়ে দুর্ঘটনাক্রমে তথ্য প্রোগ্রাম লেখা হয়েছিল । এমন বিমানের উপর আপনার কতটা আস্থা থাকবে বলে মনে হয়? কিন্তু যদি আমাদের এই “মস্তিষ্কের” গঠনশৈলী এবং এর আভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালীর পিছনে কোনও মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তা না থাকে যা মানুষের মস্তিষ্ককে এমন ভাবে নির্মাণ করেছে যে, সেটা ঠিক তেমন ভাবেই কাজ করে চলেছে, ঠিক যে উদ্দেশ্যে একে তৈরি করা হয়েছে, বরং এটি তৈরি হয়েছে বস্তুগত মহাবিশ্বে ঘটে যাওয়া এক কাকতালীয় বা দুর্ঘটনাক্রমে; তাহলে কেন আমরা এই “মস্তিষ্কের” উপর বিশ্বাস করব? এমন অবস্থায় আমরা নিজেরদের চিন্তাগুলিকে কী ভাবে ভরসা করতে পারি? কী ভাবেই আমরা মেনে নেব যে, যেটা আমরা সত্যি বলে ভাবছি, সেটা প্রকৃত অর্থেই সত্যি?


নৃতাত্ত্বিক নীতি

নকশা সম্পর্কিত যুক্তির অন্য আরেকটি শক্তিশালী প্রস্তাব হল, নৃতাত্ত্বিক নীতি । মানববিদ্যার এই নীতি অনুযায়ী মহাবিশ্ব শুরু থেকেই বিশেষভাবে মানুষের জীবনের বিবর্তনের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছিল। জ্যোতিঃর্পদার্থবিজ্ঞানীরা বলেন, যদি প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ কোটি বছর আগে মহজাগতিক বিস্ফোরণের (Big Bang) সময় সৃষ্ট আদিম অগ্নিগোলকের তাপমাত্রা এক লক্ষ কোটি ডিগ্রির লক্ষ কোটি ভাগের এক ভাগ ঠান্ডা বা বেশি গরম হত, তাহলে সমস্ত জৈব জীবনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করা কার্বন অণু কখনই বিকশিত হতে পারত না। বিজ্ঞানীদের মতে সম্ভাব্য মহাবিশ্বের সংখ্যা লক্ষ কোটি হতে পারে; তবে তাদের মধ্যে কেবল একটিজীবনকে টিকিয়ে রাখার পক্ষে প্রমাণ দেয় ও জীবনকে টিকিয়ে রাখার সকল প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক ও ভৌতিক শর্তগুলিকে নিখুঁত ভাবেই মেনে চলে, তা হল আমাদের পৃথিবী অনেকের কাছে এটা অনেকটা চক্রান্তের মতো শোনায়। যদি মহাজাগতিক রশ্মি আদিম স্লাইমের উপর সামান্য ভিন্ন কোণ, সময় বা তীব্রতায় বর্ষিত হতো, তাহলে পৃথিবীতে থাকা সমস্ত উষ্ণ রক্তের প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় হিমোগ্লোবিন অণু কখনও বিকশিত হতে পারত না। এই অণুর বিবর্তনের সম্ভাবনা লক্ষ কোটিতে কোটিতে একবারের মতো। এমন প্রতিটি সম্ভাবনাকে একত্রিত করলেআমরা এমন কিছু পাবো, যা ওই দশ লক্ষ বানরের ‘হ্যামলেট’ লেখার চেয়েও অনেক বেশি অবিশ্বাস্য বলে মনে হবে।

বাস্তবে স্নায়ুবিজ্ঞানী, মস্তিষ্ক-শল্যচিকিৎসক এবং জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে নাস্তিকের সংখ্যা তুলনামূলকহারে কম; অন্যদিকে, মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে নাস্তিকদের সংখ্যা অনেক বেশি। এর কারণটি বেশ স্পষ্ট: প্রথম শ্রেণীর মানুষগুলি অধ্যয়ন করেন ‘ঐশ্বরিক পরিকল্পনা, আর দ্বিতীয়রা অধ্যয়ন করেন ‘মানবিক অপরিকল্পনা’।


বিবর্তনবাদ যে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে

কিন্তু প্রশ্ন, বিবর্তনবাদ কোনো ঐশ্বরিক স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করেই কী জীবন ও মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করে না? আসল সত্য ঠিক এর বিপরীত; বিবর্তনবাদ বরং ঐশ্বরিক পরিকল্পনারই এক চমৎকার উদাহরণ—ঈশ্বরের অস্তিত্বের এক জোরালো ইঙ্গিত তুলে ধরে। সরল থেকে জটিল রূপ ধারণ করা প্রজাতিসমূহের যে ক্রমবিকাশ ও সুশৃঙ্খল আবির্ভাব ঘটেছে, তার সপক্ষে অত্যন্ত জোরালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু বিবর্তনবাদের মতবাদ অনুযায়ী ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’- এর সপক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। প্রাকৃতিক নির্বাচন বলতে ‘যোগ্যতমের টিকে থাকার’ (survival-of-the-fittest) নীতির ওপর ভিত্তি করে কোনও প্রাণীর, একজন বুদ্ধিদীপ্ত ঐশ্বরিক পরিকল্পনা ছাড়াই উন্নততর জীবরূপের আবির্ভাবকে ‘ব্যাখ্যা’ করার চেষ্টা করে। তবে এটি নিছকই একটি তাত্ত্বিক ধারণা। এমন কোনো প্রমাণ নেই যা বলে দেয়, বিমূর্ত ও তাত্ত্বিক চিন্তাভাবনা, যেমন পরার্থপর ভালোবাসা ও অন্যের প্রতি দয়ামায়া মানুষের অস্তিত্বে টিকে থাকাকে সহজতর করে তোলে। তাহলে প্রশ্ন হলো—এসব গুণাবলি কীভাবে এবং কেন বিবর্তিত হলো? এর উত্তর বিবর্তনবাদের কাছে নেই।


কার্যকারণ নীতি

আরেকটি গুরুতর প্রশ্ন এই যে, মানুষের মধ্যে এবং মানুষের মস্তিষ্কের গঠনশৈলীতে যে নকশা স্পষ্টতই বিদ্যমান সেটা কী এমন কোনও কিছু থেকে এসেছে, যা নকশাবিহীন উৎস বা শূন্য থেকে এসেছে? তর্কশাস্ত্র ও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, এ ধরনের ব্যাখ্যা কার্যকারণ নীতিকে লঙ্ঘন করে, যা বলে যে, কারণের চাইতে প্রভাবে বেশি কিছু পাওয়া যায়না । অর্থাৎ, যদি প্রভাবের (মানুষের) মধ্যে বুদ্ধি থাকে, তাহলে এই প্রভাবকে উৎপন্নকারী কারণের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা থাকতে বাধ্য। কিন্তু হটাৎ, কাকতালীয় ভাবে তৈরি হওয়া মহাবিশ্বের তো কোনও বুদ্ধিমত্তা নেই। অতএব, মানুষের বুদ্ধিমত্তার যে উপস্থিতি আছে, তার জন্য অবশ্যই একটি জোরালো কারণ থাকতে হবে যা বস্তুগত মহাবিশ্বের ঊর্ধে রয়েছে: অর্থাৎ, ভৌত মহাবিশ্বের পিছনে থাকা একটি মন, একটি সত্তা। যাইহোক, বেশিরভাগ মহান বিজ্ঞানীরা এমনটাই বিশ্বাস করেছেন, যদিও তারা কোনও পরিচিত ধর্মের সদস্য নন।


আমাদের সিধান্ত

“মহাবিশ্বের নকশা” থেকে নেওয়া এই যুক্তি ঈশ্বরের অস্তিত্ব ঠিক কতটুকু প্রমাণ করে? সত্যি কথা হল, ঈশ্বর বলতে একজন খ্রীষ্টান যা কিছু বোঝে—তার সবটুকু নয়। তেমন কোনও যুক্তি দিয়েই তা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। যেহেতু ঈশ্বর যুক্তির ঊর্ধে। আমরা যুক্তি দিয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্বের কারণের পিছনে থাকা সকল কারণগুলিকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরি মাত্র। তবে এ যুক্তি ঈশ্বরের অস্তিত্বের একটি বড় অংশকেই প্রমাণ করে: এমন এক সুপরিকল্পনাকারী বুদ্ধিমত্তা (Intelligence) ও সত্তা (Entity), যা মহাবিশ্ব ও মানবমনের সমস্ত সুবিন্যস্ত নকশার ব্যাখ্যা দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এটি যদি ঈশ্বর নাই হয়, তবে এটি আর কী হতে পারে?
Ahmedabad